রক্তাক্ত একাত্তর

২৫ মার্চ ১৯৭১:
– ইয়াহিয়া খান-বঙ্গবন্ধু আলোচনা সকালেই চলছে।
– ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য “নীতিগতভাবে” সম্মত হন।
– আনুমানিক ১০,০০০ পাকিস্তানি সৈন্য চট্টগ্রাম ও খুলনায় অবতরণ করে পূর্ব পাকিস্তানে ৬০ হাজার সেনা যোগ করে।
– ইয়াহিয়া ও মুজিবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাতিল। ইয়াহিয়া ঢাকা ছেড়েছেন ঢাকায় পাকিস্তানি সেনা বাহিনী ব্যাপকভাবে হামলা চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, হিন্দু এলাকায়, ইপিপি, ইপিআর, এবং আওয়ামী লীগের অফিসগুলিতে নজর দিয়েছিল।
– বঙ্গবন্ধুকে রাত ১১ টায় গ্রেফতার করা হয়।
২৬ মার্চ ১৯৭১:
– পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্য ও বাঙালীদের মধ্যে ব্যাপক লড়াই অব্যাহত।
– করাচি থেকে জাতির কাছে সম্প্রচারিত এক রেডিও বার্তায় জাতিকে অবহিত করা হয় যে, ষড়যন্ত্রের কারনে তাকে দোষী সাবস্ত্যসহ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে এবং পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় সরকাওে কর্তব্য ফিরিয়ে আনার জন্য সেনাবাহিনীকে আদেশ দেয়।
– “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র” থেকে সম্প্রচার করা হয় যে, স্বাধীনতা একতরফা ঘোষণার সম্প্রচার করে বলেছে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ঘোষণা করেছেন।
২৭ মার্চ ১৯৭১:
– রেডিও পাকিস্তানের শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতারের ঘোষণা দেয়।
– ভুট্টো পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা আন্দোলনকে চুর্ণ করার জন্য ইয়াহিয়া খানের আদেশে তার সমর্থন ঘোষণা করেন।
২৮ মার্চ ১৯৭১:
– “স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র” বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠনের ঘোষনা দেয়।
৩১ মার্চ ১৯৭১:
– ভারতীয় সংসদের রেজুলিউশন পূর্ব বাংলার জনগণের সাথে সহানুভুতি ও সংহতি প্রকাশ করে, ভারতীয় জনগনও সহানুভতি ও সমর্থন বজায় রাখে।
০১ এপ্রিল ১৯৭১:
– পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরে পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়।

১০ এপ্রিল ১৯৭১:
– অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশকে ঘোষণা করে।
১২ এপ্রিল ১৯৭১:
– বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, যেখানে শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি পদে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দিন আহমেদ।
১৭ এপ্রিল ১৯৭১:
– মুজিবনগরে, অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহন করে।
০৬ জুন, ১৯৭১:
– সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, বেতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ইস্যুতে রাজনৈতিক নিষ্পত্তির জন্য চারটি বিষয় ঘোষনা করেন। (১) শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি. (২) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার, (৩) বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের স্বীকৃতি এবং (৪) পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃত “অত্যাচার” কারণে ক্ষতিপূরণ।
১১ আগস্ট ১৯৭১:
– শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন হন।
১৪ অক্টোবর ১৯৭১:
– ভারতীয় বাহিনী পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশে অবস্থান জোরদার করে।
২৯ অক্টোবর ১৯৭১:
– ভারত থেকে শরণার্থীর সংখ্যা ৯৫৮৭০০০ দাবী করা হয়।।
০১ নভেম্বর ১৯৭১:
– শেখ মুজিবুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং সামরিক ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদন্ডের সুপারিশ করা হয়।

২৩ নভেম্বর ১৯৭১:
– ইয়াহিয়া খান বিদেশী আগ্রাসনের কথা বলে দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষনা করেন।

০৬ ডিসেম্বর ১৯৭১:
– ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
০৭ ডিসেম্বর ১৯৭১:
– জাতিসংঘ মহাসচিবের রেজুলেশনটি যুদ্ধবিরতি এবং ভারতীয় ও পাকিস্তানি বাহিনী তাদের অধিকৃত সাধারন পরিষদে পাশকৃত অঞ্চল সমূহ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নিজ দেশে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।
০৯ ডিসেম্বও ১৯৭১:
– পাকিস্তান টঘএঅ গ্রহন করে।
১৬ ডিসেম্বর ২৪ ডিসেম্বর:
– পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাংলাদেশের কাছে আতœমসর্পণ করে।
১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১:
– পশ্চিমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।